ভারতের উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় পর্যটকবাহী একটি স্লিপার বাসে আগুন লেগে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আগুন লাগার সময় প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন যাত্রী বাসের জানালা দিয়ে লাফিয়ে বের হন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে নয়ডার যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে ৩৪ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। আগুন লাগার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন।
জানা গেছে, বাসটি নয়ডা থেকে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে উত্তরপ্রদেশের মহোবার দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ বাসটিতে আগুন ধরে গেলে মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও জেওয়ার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। বর্তমানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পরিস্থিতির খোঁজ নেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী বলেন, তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ দরজায় ধাক্কার শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। এরপর চারদিকে ধোঁয়া ও মানুষের ভিড় দেখতে পান। কোনো জিনিসপত্র নেওয়ার সুযোগ না পেয়ে শুধু ফোনটি নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
ওই যাত্রী জানান, বাসের ভেতরে প্রচণ্ড ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি ছিল। একপর্যায়ে একজন তাকে টেনে বাইরে বের করে নেন। তাঁর ভাষ্য, পুরো বাস ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল এবং ভেতরে থাকা অনেকেই শ্বাস নিতে পারছিলেন না। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে যারা কোনোভাবে বের হতে পেরেছেন, তারাই প্রাণে বেঁচেছেন বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক